১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২০

ঈদ ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও অপার্থিব আনন্দ

এস এম সাব্বির : সংযম, ত্যাগ আর সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শেষ হতে চলেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে সমাগত। ধনী-গরীবসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করবে। বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্যে এই দিনটি বিশ্ব মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা পালনে কামপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ, অন্যায়, অবিচার, মিথ্যা ও পাপাচার থেকে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের পর আসে ঈদ। ঈদ অর্থ আনন্দ। দিনটি তাই উৎসব, অনাবিল আনন্দ আর কল্যাণের। ঈদের তাৎপর্য জীবনকে ন্যায়, সত্য, মানবিকতা আর ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। পৃথিবী আজ জাতি-ধর্ম, ধনী-গরীব, সবল-দুর্বল নানাবিধ বিভক্তি ও সংঘাতে সংকটাপন্ন। এই সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য সহিষ্ণুতা, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ঈদ হবে সম্প্র্রীতিময়। সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে অপার্থিব আনন্দ। সারা বছরের একঘেয়ে জীবনে ঈদ নিয়ে আসে পরিপূর্ণ উৎসবের আমেজ। বিশ্ব মুসলিম সমপ্রদায়ের প্রত্যেকটি ঘরে আগমন ঘটে এই দিনটি। পুরো রমজান জুড়েই চলে ঈদের প্রস্তুতি। কেনাকাটা, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ফেরার প্রস্তুতি। তবে সবাই কি এই আনন্দের সমান অংশীদার হতে পারি? না, ঈদ আসলেই আমাদের সমাজে একটি বিষয় লক্ষ করা যায়। তাহলো ধনী-গরীবের বৈষম্য। উচ্চবিত্ত ও উচ্চবিলাসী মানুষের অপচয়ের প্রবণতা। আমরা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছুটে যাই মার্কেটে। কিন্তু খবর রাখি না পাশের গরিব, অসহায় নিম্মবিত্ত সাধারণ মানুষের। আর মধ্যবিত্তদের তো আয়-ব্যায়ের হিসাব-নিকাশের টানাপড়েনেই সময় চলে যায়। তবু ঈদে যে যার সাধ্যমতো খরচ করে থাকেন। প্রত্যাশা থাকে একটাই ঈদের আনন্দে এক কাতারে, এক আনন্দধারার সকলের সঙ্গে মিশে যাওয়া। আর এই আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে আয়োজনেরও কমতি নেই। সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলে থাকবে সপ্তাহব্যাপী ঈদের নানা অনুষ্ঠান। এছাড়া পত্রিকাগুলো প্রকাশ করবে নানা স্বাদের লেখা নিয়ে বিশেষ কলেবরে ঈদসংখ্যা। ঈদ উৎসবের এসব অনুষঙ্গ সর্বজনীন। কেনাকাটা, বেড়াতে যাওয়া, অনুষ্ঠান আয়োজন-উপভোগ এগুলো কোন নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আনন্দ আয়োজনে শরিক হই সবাই। তবে এই আনন্দে মগ্ন হয়ে যেন আমরা আমাদের দুস্থ স্বজন আর প্রতিবেশীদের কথা ভুলে না যাই। আমরা আমাদের নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী দরিদ্রদের প্রতি সহযোগিতার ও সহমর্মিতার হাত বাড়াই। তাহলে সকলকে নিয়ে আনন্দ-উৎসবে শরিক সার্থক হবে। ঈদ উৎসবের আনন্দে যতো বেশি মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে, ততোই তাৎপর্যময় হয়ে উঠবে ঈদের সর্বজনীনতা। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ঈদুল ফিতরের রীতির মধ্যে আছে ফিতরা বিতরণ, অর্থাৎ গরিব-দুঃখী সবার মধ্যে সম্পদ বন্টনের মধ্য দিয়ে এ আনন্দকে ছড়িয়ে দেয়া। উৎসব উদযাপনে সবাইকে সমভাগী করে নেয়া। ঈদের উৎসবটি তখনই মহিমান্বিত হয়ে উঠবে যখন অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো এতে শরিক হতে পারবে। এলক্ষ্যেই ইসলামে জাকাত ফরজ করা হয়েছে।
কিন্তু দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে সামর্থ্যবান অনেকেই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঠিকমতো জাকাত আদায় করি না। আশা করি, এবার আমরা ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি তুলনামূলক স্বস্তির পরিবেশে। দরিদ্রতা সংকীর্ণতা, দূর করে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে সহিষ্ণুতা-সহমর্মিতা, শান্তি-সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সেই সঙ্গে কাদামাটিবিডি.ডটকম এর সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, কাদামাটিবিডি.ডটকম

প্রকাশ :  জুন ১৫, ২০১৮ ২:০০ অপরাহ্ণ
x

Check Also

২০১৯ নির্বাচন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যময় নির্বাচন

নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় : আগামী এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠেয় ভারতের সাধারণ নির্বাচন এক অর্থে অসাধারণ। কারণ, ভারতের ...