১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪০

ফল সংরক্ষণে উদ্যোগ নিন

অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার দেশে আমের ফলন ভালো হয়েছে। গত অর্থবছরে সারা দেশে আমের উত্পাদন ছিল ২১ লাখ ৪৩ হাজার টনের বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হিসাব করলে উত্পাদন অনেক বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলটি নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষণের অভাবে। ফল সংগ্রহের পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ। বিপণনব্যবস্থায় রয়েছে দুর্বলতা। প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা রপ্তানি বাড়াতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। জাতীয় ফল কাঁঠালের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে উত্পাদিত কাঁঠালের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৯ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই উত্পাদন আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অথচ প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় প্রতি মৌসুমে উত্পাদিত কাঁঠালের বড় অংশ নষ্ট হয়। শুধু কাঁঠাল কিংবা আম নয়, আনারস, পেয়ারা, লটকনসহ দেশের প্রায় প্রতিটি মৌসুমি ফলই সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হয়। এবার তো আম চাষিদের লোকসান দিতে হয়েছে। অথচ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে চাষিদের বাজারে নাকাল হতে হতো না।

বাংলাদেশে ১৩০টিরও বেশি ফল আছে। সেসবের মধ্যে বেশি উল্লেখযোগ্য ফল হলো আম, আনারস, কাঁঠাল, কালোজাম, নারিকেল, কলা, পেয়ারা, লিচু, জলপাই, আঙুর, বাতাবিলেবু, খেজুর, তাল, বেল, তরমুজ, বরই, তেঁতুল, আমড়া, পেঁপে ও কমলা। স্বাস্থ্য সংরক্ষণে পৃথিবীতে যত খাবার আছে সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে ফলের স্থান সবার ওপরে। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের উপযুক্ত মাত্রায় অবস্থিতির পাশাপাশি আছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণের সুষম অবস্থান। কিন্তু আমাদের দেশের ফল নির্দিষ্ট সময়ের পর পাওয়া যায় না। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ করা হয় বলে বিদেশের বাজারে সব ধরনের ফল সারা বছর ধরে পাওয়া যায়। দেশের অর্থকরী ফল আম, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বাজারেই প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাজারজাত করা যেতে পারে। আবার বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। এর জন্য দরকার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।

রাঙামাটির নানিয়ার চরে হর্টিকালচার সেন্টারের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সেখানে কাঁঠাল, পেঁপে, কলা, আনারস, আমসহ অন্যান্য ফলের চিপস বানানোর কথা। কিন্তু সেই কারখানা কবে নাগাদ চালু হবে, তা কেউ জানে না। শুধু নানিয়ার চর কেন, সারা দেশেই তো এ ধরনের কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যায়। আমরা আশা করব, দেশের সব জেলায় না হোক, মৌসুমি ফলের উৎপাদন বেশি এমন সব জায়গায় ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকাশ :  জুলাই ১৯, ২০১৮ ১১:২২ অপরাহ্ণ