১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪০

গণমাধ্যমের ‘মি টু’ সমস্যা

হানাহ স্টর্ম : সাংবাদিকতা বিভাগের ক্লাসরুমগুলোতে নারীদের প্রাধান্য থাকলেও এখনো বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম পুরুষশাসিত। পুরুষরাই নিউজরুমে উঁচু পদে আছেন, তাদের রিপোর্ট বেশি প্রচারিত হয় এবং তাদেরকে প্রায়ই বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ভালো বা এক্সক্লুসিভ কোন খবর সৃষ্টি করতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলাকে গণমাধ্যমে একটা গুণ হিসেবে দেখা হয়। খবর মিস না করার তাগিদে সাংবাদিকদেরকেও নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রেখে চলতে হয়। তাই সহযোগী ও সহকর্মীদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তখনই সমস্যা দেখা দেয়, যখন এই সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়। আরও ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যদি কোন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কোন কনিষ্ঠা নারী সাংবাদিকের সঙ্গে এককভাবে শারিরীক ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে চায়। সব বৈরিতাকে মোকাবেলা করেই নারী সাংবাদিকরা সারা বিশ্বে পেশাগতভাবে উন্নতি করছে। যদিও তাদের উন্নতির গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। ডিজিটাল নিউজরুমগুলোতে নারী নেতৃত্ব দ্রুততার সঙ্গে বিকশিত হয়। তারপরও যৌন হয়রানির ঝুঁকি সেখানে কোনভাবেই কম নয়। এরই মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল পুরুষ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন নারী সাংবাদিকদের প্রতি অযাচিত ব্যবহারের অভিযোগে, মি টু আন্দোলনের অংশ হিসেবে।

কিন্তু সার্বিকভাবে নারী সাংবাদিকরা কর্মক্ষেত্রে যে বাড়তি হুমকির মধ্যে থাকেন তা এখনো হালকাভাবে নেয়া হয় নিউজরুমগুলোতে। দায়িত্ব বন্টনের সময়, মাঠ পর্যায়ে বা অফিসে যে কোন কোন কাজে নারী সাংবাদিকরা অপরিচিত, পরিচিত বা সহকর্মী পুরুষদের অনাকাঙ্খিত আক্রমণের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে তা প্রায়ই খেয়াল রাখা হয় না। মাঠ পর্যায়ে আক্রান্ত হলে অনেক সময়ই নারী সাংবাদিকদেরকে ভূমিকা নিয়েই বিতর্ক করার সংস্কৃতিও বর্তমান।

বাস্তবতা হলো, লিঙ্গ, জাতিসত্বা এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতার কারণে সাংবাদিকরা কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার শিকার হন। ঝুঁকি এবং পুরস্কার দুটো ক্ষেত্রেই থাকে ভিন্নতা। যে কোন দায়িত্ব দেবার সময় খবর ব্যবস্থাপককে এসব বিবেচনায় নিয়ে সঠিক বা যোগ্যতম সাংবাদিক নির্বাচন করে তাঁর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। যে সাংগঠনিক সংস্কৃতি নারী-বিরুদ্ধ তার বিরুদ্ধে নিউজরুম বসদের সামনের কাতারে থেকে লড়াই চালাতে হবে। রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। আবার একজনই সব পাল্টাতে পারবে না। অধঃস্তন নারীদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে।

প্রবীনদের বিরুদ্ধে নবীনদের বা পুরুষদের বিরুদ্ধে নারীদের দাঁড় করানোটাই এখানে লক্ষ্য হতে পারে না। বরং উদ্দেশ্য হতে হবে, নিজেদের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে গণমাধ্যমে যে ব্যর্থতা দেখিয়েছে তা শুধরে নেয়া। কারণ, এ ব্যর্থতা না শুধরাতে পারলে নারীরা তাদের সম্ভাবনার পুরোটা গণমাধ্যমকে না দিতে পারলে আমাদের সবারই ক্ষতি।

(লেখক : পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সেফটি ইন্সটিটিউট। মূল ইংরেজি থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত।)

প্রকাশ :  নভেম্বর ১৭, ২০১৮ ২:০০ পূর্বাহ্ণ
x

Check Also

ঘূর্ণিঝড় গজ নয়, ১২ বছরের কিশোরীর মৃত্যুর কারণ তার সমাজব্যবস্থা

রাজেশ্বরী গণেশা : ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের থাঞ্জাভুর জেলার আনাইক্যাডু গ্রামের ১২ বছরের বিজয়ার প্রথমবার মাসিক ...