১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৪০

ঘূর্ণিঝড় গজ নয়, ১২ বছরের কিশোরীর মৃত্যুর কারণ তার সমাজব্যবস্থা

রাজেশ্বরী গণেশা : ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের থাঞ্জাভুর জেলার আনাইক্যাডু গ্রামের ১২ বছরের বিজয়ার প্রথমবার মাসিক হয় নভেম্বরের ১২ তারিেেখ। প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় গজ‘র মাত্র তিনদিন আগে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিজয়া প্রথামতো তার বাড়ির পেছনে খড়ের তৈরী অস্থায়ী ঘরে একা ঘুমোতে যায়। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে একটি নারিকেল গাছ বিজয়ার অস্থায়ী ঘরের উপর আছড়ে পড়ে যা বিজয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

আমার যখন প্রথমবার মাসিক হয় তখন আমার মা আমাকে বলেছিলেন, আমাকে একা আলাদা ঘরে থাকতে হবে। আমাদের এলাকায় রক্ষণশীল পরিবারগুলোতে এটি ছিলো অবশ্যপালণীয় বিধান। সে রাতে পাতলা বিছানায় কম্বলহীন অবস্থায় থরথর করে কাঁপছিলাম আমি। তবে শীতের চেয়েও বেশি ভীত ছিলাম মাসিকের রক্তপাত নিয়ে। কিন্তু আমার মতো হয়তো অতোটা ভগ্যবান ছিলো না ১২ বছরের বিজয়া। তাই তাকে চলে যেতে হলো অকালে।

স্থানীয় ডিএসপি গণেশামূর্তি নিউজ মিনিটকে জানান, রাজ্যের এই অংশে এমন ধরনের আচার প্রচলিত। যখন কোন মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌছায় তখন তাকে খড়ের তৈরী কুড়ে ঘরে থাকতে বাধ্য করে তার পরিাবর। যাবতীয় আচার পালিত হয়ে গেলেই কেবল তাকে তারা ঘরে আসতে দেয়। এমনকি আমার ৪০ বছর বয়স্কা শিক্ষিত বোনকেও এই আচার মেনে চলতে হয়।

এই ঘৃণ্য প্রথা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীন গ্রীকরাও এমন আচারে বিশ্বাস করতো। প্লিনি দ্য এল্ডার খ্রীষ্টপূর্ব ৭৯ সালে বলেছিলেন, যদি কোন নারী মাসিক চলাকালীন শস্যখেতের মধ্য দিয়ে হাটে তবে মহা অনিষ্ট ঘটে যাবে। কি কি ঘটতে পারে তার লম্বা একটি ফিরিস্তি দিয়েছিলেন তিনি। তাই মাসিক চলাকালে নারীদের একা থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ইসলামেও মাসিকের সময় নারীকে অপবিত্র আখ্যা দেওয়া হয়েছে। খ্রীস্টিয় অনুশাসন মতে মাসিকের সময় নারী সকল প্রকার ধর্মীয় কাজ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। জুদাইজমে মাসিক চলাকালে নারীকে আলাদা থাকার কথা বলা হচ্ছে কয়েকদিনের জন্য। জাপানের শিন্টো এবং বৌদ্ধ ধর্মেও একই ধরণের কথা বলা হয়েছে।

তবে কি বিজয়ারা বারবার মরতেই থাকবে এভাবে? ২১ শতকে এসে থামবে এই মৃত্যুর মিছিল? সহসাই থামবে না, থামাতে হবে। তবে এর জন্য পাড়ি দিতে হবে বহুদূর। বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সারাদেশে পৌঁছাতে হবে। নারীদের পিতৃতন্ত্রের যাবতীয় বিষয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহসী করে তুলতে হবে। নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। যাতে করে নারী তার বিরুদ্ধে করা সকল আর্থিক অন্যায়ের প্রতিাবাদ জানাতে পারে।

লেখক : এসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইনফোসিস।

প্রকাশ :  নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
x

Check Also

গণমাধ্যমের ‘মি টু’ সমস্যা

হানাহ স্টর্ম : সাংবাদিকতা বিভাগের ক্লাসরুমগুলোতে নারীদের প্রাধান্য থাকলেও এখনো বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম পুরুষশাসিত। পুরুষরাই নিউজরুমে ...