১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৫৯

স্ট্যালিন মার খেয়েও ঘাসে দাঁতের দাগ লাগাননি

স্টাফ রিপোর্টার: ১৮৯৮ সালের ১০ জানুয়ারি। স্ট্যালিনের বয়স তখন ২০। সেদিন জার শাসকরা জর্জিয়ার ২০ রেলশ্রমিককে মাঠে সারিবদ্ধ করে চাবুক মারছিল যতক্ষণ না তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছিলেন। এ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্ট্যালিন। উনিশজন লুটিয়ে পড়ার পর স্ট্যালিনের পালা। শেষজন। তাকে মারতে গেলে তিনি একটু সময় নিয়ে একটা কচি ঘাস দু’দাঁতের মধ্যে আলতোভাবে চেপে ধরে মারতে বললেন। দুজন চাবুক দিয়ে মারতে মারতে একসময় তারাই মাঠে লুটিয়ে পড়ল। স্ট্যালিন দাঁড়িয়ে। ক্যাপ্টেন ইভানভকে কাছে ডেকে দু’দাঁতের ভেতরে ধরে রাখা কচি ঘাস বের করে বললেন, ‘ তোমরা এত মারলে কিন্তু দেখো আমি এই কচি ঘাসের ওপর দাঁতের দাগ বসাইনি। আমাকে মারতে গিয়ে তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে। আমি হইনি। আর মনে রেখো তোমাদের এ শাসন- শোষণ ভেঙে দেওয়ার নায়ক হবো একদিন। নাম আমার জোসেফ স্ট্যালিন।’ গ্রীসের সাংবাদিক কাজান জাকিস ‘রিপোর্ট টু গ্রেকো’তে এ তথ্য দিয়েছেন। স্ট্যালিনের জন্ম ১৮৭৮ সালে জর্জিয়ায়। বাবা শ্রমিক ছিলেন। প্রতি রাতে শৈশবে দেখতেন বাবা মদ খেয়ে এসে মাকে মারতেন। কোনদিন চুলো জ্বলত, কোনদিন না। কিন্তু কৈশোর থেকেই তিনি প্রতিদিন আট কিলোমিটার দৌড়াতেন। ১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে জারতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে বলশেভিক বিপ্লব হয়। প্রথম প্রেসিডেন্ট হন লেনিন। লেনিনের পরের মেয়াদেই স্ট্যালিন হন এ মহারাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট তখন ক্যাপ্টেন ইভানভকে খুঁজে বের করেন পেত্রাগার্দের একটা বস্তিতে। ইভানভের কেউ নেই। স্ত্রী-পুত্র-কন্যাহীন। বললেন, ‘তোমার কেউ নেই। আজ থেকে আমি তোমার সন্তান। তোমাকে দেখভাল করব। কারণ আমাকে মারার দিন আমার কথা শুনে তোমার চোখে জল দেখেছিলাম।’

এই স্ট্যালিনই আবার বন্দী শিবিরে শ্রেণিশক্রুদের নির্যাতনও চালাতেন। যারা কমিউনিজমের বিরোধী ছিল। তিনি মারা যান ১৯৫৩ সালের ৫ মার্চ। মারা যাওয়ার বছরখানের আগে মস্কোতে একটা ঘরোয়া পার্টিতে কৈশোরের পছন্দের তরুণী তিতিয়ানার দেখা পেলে বলেছিলেন, ‘বিপ্লবী জীবন বেছে নেওয়ায় তোমাকে ভালবাসবার অবসর পাইনি। কিন্তু তারুণ্যে পাওয়া তোমার প্রেমের প্রস্তাব এখনো আমার হৃদয়ে পতাকার মতো দোলে। মাফ করে দিও’।

প্রকাশ :  নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ১:১০ পূর্বাহ্ণ
x

Check Also

মা সন্তানের বিয়ে দেখলে নেগেটিভ এনার্জি ছড়ায়! প্রচলিত যেসব রীতি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন জায়গায় আচার-অনুষ্ঠানের অনেক রীতি রয়েছে। প্রত্যেক রীতির পিছনেই কোনও না কোনও ...