বাবাকে হারানোর পরও থামেনি স্বপ্ন, ডাক্তার হতে চায় টুঙ্গিপাড়ার শয়ন
এসএসসিতে গোল্ডেন-৫, উপজেলা পর্যায়ে চতুর্থ; দরিদ্র মায়ের পক্ষে সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি,
একটি ছোট্ট ঘর। বৃষ্টির দিনে টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। এর মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন-৫) অর্জন করেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দারিয়াড়কুল গ্রামের কিশোর শয়ন রাহা। এখন তার স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট।
শয়ন টুঙ্গিপাড়ার বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। পুরো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ফলাফলে তার অবস্থান চতুর্থ। মেধা ও অধ্যবসায়ের এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও সামনে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় শয়ন ও তার মা।
মাত্র কয়েক মাস আগেই বাবাকে হারিয়েছে শয়ন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আকস্মিক স্ট্রোকে মারা যান তার বাবা বিপুল রাহা। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মা কমলা রাহার ওপর। বর্তমানে একটি পুরোনো সেলাই মেশিনে কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
দারিয়াড়কুল গ্রামের যে ঘরে শয়ন ও তার মা বসবাস করেন, সেটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টির সময় ঘরের টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শয়ন পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। অভাব তার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও মেধা ও স্বপ্ন থেকে তাকে সরাতে পারেনি।
শয়নের কাছে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের পেছনে রয়েছে বাবাকে হারানোর বেদনাদায়ক স্মৃতি। তার ভাষায়, চিকিৎসার অভাবে বাবাকে হারানোর কষ্ট তাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে।
শয়ন জানায়, ‘আমি ডাক্তার হতে চাই। আমার বাবার মতো যেন চিকিৎসার অভাবে আর কাউকে হারাতে না হয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’
কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় বই, কোচিং, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী শিক্ষাজীবনের খরচ—সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। সেলাই করে সীমিত আয় করা মায়ের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা কঠিন।
বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, শয়ন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে এবং ভালো ফলাফল করেছে। তার মতো শিক্ষার্থীর পাশে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ দাঁড়ালে তার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে।
শয়নের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার মেধা ও স্বপ্ন যেন অর্থের কাছে পরাজিত না হয়। একটি মেধাবী জীবনকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি উদ্যোগ, শিক্ষানুরাগী ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
শয়নের পাশে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া নয়; বরং ভবিষ্যতের একজন চিকিৎসককে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া। আর সেই চিকিৎসক একদিন হয়তো অসংখ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন—এমন আশাই এখন শয়ন ও তার মায়ের।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ
মোবাইল: ০১৭৩৬৩২৩৮১১
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ আগস্ট ২০২৬