গোপালগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড নেই দেড় মাস, আটকে আছে সেবা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সেবাপ্রার্থী। সাবেক এসিল্যান্ড মো. রুহুল আমিন শরিফ বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কর্মকর্তা পদে যোগদান করেননি বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই পদে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় ভূমি অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভূমি মালিক ও সেবাপ্রার্থীরা। বিশেষ করে নামজারি (মিউটেশন) নিষ্পত্তি, শুনানি গ্রহণ, ভূমি রেকর্ড সংশোধন, খাজনা-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অভিযোগের ফাইল নিষ্পত্তিতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত জরুরি কাজে অফিসে এসে অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাধিকবার অফিসে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি হালনাগাদ এবং অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভূমি সেবা মানুষের সম্পত্তির অধিকার, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত একজন স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হলে সেবার স্বাভাবিক গতি ফিরবে এবং জনগণের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, স্থায়ী কর্মকর্তা যোগদানের আগ পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ফাইল ও আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হোক।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে দ্রুত নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকটের অবসান হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সেবাপ্রার্থীদের।